প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইছেন গাজার ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় দিক জর্ডান ও মিশর
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা 'খালি' করার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তিনি গাজাবাসীদের মিশর এবং জর্ডান পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন।
সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহকে বলেছেন, "আমি চাই আপনি আরও বেশি দায়িত্ব নিন, কারণ আমি গাজার পুরো চিত্র দেখছি। এটি একেবারেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।"
রোববার মিশরের প্রেসিডেন্টকেও একই ধরনের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে এটা কী স্বল্প, না কি দীর্ঘ মেয়াদের জন্য এমন প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এই পদক্ষেপ "স্বল্প মেয়াদী কিংবা দীর্ঘমেয়াদিও হতে পারে।"
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে হামাস।
হামাস বলছে, এই উদ্যোগ বা প্রস্তাবনা গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য ক্ষোভের কারণ হতে পারে। কারণ তারা এই ভূখণ্ডকে তাদের নিজেদের ভিটেমাটি হিসেবেই দেখে।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসিম নাইম বিবিসিকে বলেছেন, "১৫ মাস ধরে গাজার ফিলিস্তিনবাসী যুদ্ধ ও মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে সব কিছু সহ্য করেছে। কিন্তু তারা তাদের নিজ ভূখণ্ড ছেড়ে যায়নি।"
"এখন তারা এই ধরনের প্রস্তাবনা বা সমাধান গ্রহণ করবে না। এমন কী সেটি যদি পুনর্গঠনের নামে ভালো উদ্দেশ্যেও হয়ে থাকে।"
তিনি আরও বলেন, "গাজাবাসী যেমন আগেও যেমন তাদের বাস্তুচ্যুত করার সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছে, এখনও এমন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হলে তা ব্যর্থ করে দেবে।"
গাজার বিশ লাখেরও বেশি মানুষ গত ১৫ মাসে ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধে বাস্তুহারা হয়েছে।
এই যুদ্ধ গাজার বেশির ভাগ অবকাঠামোই ধ্বংস করে দিয়েছে।
জাতিসংঘের ধারণা গাজার ৬০ শতাংশ অবকাঠামো এই যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। যা ঠিক করতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে।

0 Comments